1. admin@bdtribune24.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন

বাঘায় গোপনে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের অভিযোগ :ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী

  • আপডেট সময় : বুধবার, ২২ জুন, ২০২২
  • ৪১৬ বার পঠিত

 ছবি-প্রতিনিধি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীর বাঘায় কিশোরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বুধবার (২২ জুন) নব গঠিত ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দসহ  একটি অভিভাবক সমাবেশ  অনুষ্ঠিত হয়।  কিন্তু উক্ত অভিভাবক সমাবেশে  ৮০ %  অভিভাবক অনুপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের ।  এ সময় ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুনভাবে কমিটি গঠনের দাবি করেন।
অভিভাবক সদস্য ও স্থানীয়দের অভিযোগে জানা গেছে, গত ২৫ জুন (২০২১) কিশোরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হলে ৬ মাসের জন্য অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। অ্যাডহক কমিটি থাকাকালিন নির্বাচনের মাধ্যমে নিয়মিত কমিটি গঠনের কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষক সু কৌশলে গোপনে প্রচার প্রচারনা ছাড়াই মাহাবুল ইসলাম নান্টুকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করেন। এমনকি, গঠিত কমিটি সম্পর্কেও এর আগে কাউকে জানানো হয়নি। এছাড়া নির্বাচনের জন্য কোন তফসীল ঘোষনা করা হয়নি। কিংবা তফসিল ঘোষনা করা হলেও তা গোপন রাখা হয়েছিলো। বিদ্যালয়ের শতকরা ৮০ ভাগ অভিভাবক সদস্য কমিটি গঠনের বিষয়টি জানেননা। শুধু তাই নয়, কমিটিতে যাদের অভিভাবক সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই মাদককারবারিসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
বুধবার সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে প্রধান শিক্ষক অভিভাবক সদস্যদের নিয়ে মিটিং করছেন। সেখানে দেখা যায়, ১৮/২০ জন মহিলা ও ৬/৭ জন পুরুষ অভিভাবক সদস্য উপস্থিত রয়েছেন। বিদ্যালয়ে মোট অভিভাবক সদস্য ৩০০ থেকে ৩৫০জন। এত অল্প সংখ্যক অভিভাবক সদস্য নিয়ে মিটিং করার বিষয়ে জানতে চাইলে নব গঠিত কমিটির সভাপতি মাহাবুল ইসলাম নান্টু বলেন, কেন উপস্থিত হয়নি এটা আমার জানা নেই। আপনি কিভাবে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এমন প্রশ্নে  প্রতিবেদককে  তিনি বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসে ডেকে নিয়ে আমাকে সভাপতি করা হয়েছে। পরে আমি ও প্রধান শিক্ষক মিলে কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মনেনিত করেছি। কোন নির্বাচন হয়নি।এ সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে উপস্থিত ক্ষুব্ধ অভিভাবক সদস্য রাইহান সরকার বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন ও মাহাবুল ইসলাম নান্টুর বাড়ি একই গ্রামে । আমাদের ধারনা, বিশেষ কোন সুবিধা  অর্জনের  জন্য প্রধান শিক্ষক নান্টুকে সভাপতি হিসেবে বেছে নিয়েছেন। । প্রধান শিক্ষকের এ ধরনের হঠকারি কর্মকান্ডের জন্য আমরা এলাকাবাসি চরম হতাশাগ্রস্ত ও ক্ষুব্ধ। এই বিদ্যালয়ের উন্নতি কল্পে এবং অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধ করতে খুব শিঘ্রই তফশিল ঘোষনা করে এলাকাবাসিকে একটি স্বচ্ছ কমিটি উপহার দেবার জন্য সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।
আরেকজন অভিভাবক,বিদ্যালয়ের সাবেক কমিটি ও পাকুড়িয়া ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন বলেন, আজকের অভিভাবক সমাবেশ সম্পর্কে  আমরা কিছুই জানিনা। হঠাৎ বাজারে এসে জানতে পারি, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি হয়েছে এবং আজ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ হচ্ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশের প্রতিটা সেক্টরের দুর্নীতি কঠোরহস্তে দমন করে দেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে নিয়ে যাচ্ছেন, তখন প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন কার ইশারায় এইরুপ মনগড়া  কমিটি প্রস্তুত করে সেটাকে বৈধতা দেবার অপচেষ্টা করছেন সেটা অনুসন্ধান করে প্রকাশ করার জন্য আপনাদের প্রতি অনুরোধ রইল। এসময় মকবুল মিয়া, রুহুল আমিন, রাইসুল ইসলাম সহ শতাধিক অভিভাবক সদস্য ও এলাকাবাসি বলেন, এই উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবৈধ নিয়োগ বানিজ্য অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য ব্যাক্তিকে ম্যানেজিং কমিটিতে পদ পদবি দেওয়া সহ নানারকম অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। যার প্রমান হিসেবে বলা যায় বাঘা ইসলামি একাডেমী,কাদিরপুর, গড়গড়ি, চকরাজাপুর, ও কালিদাসখালি উচ্চ বিদ্যালয় সহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে জমা হয়েছে। কিন্তু অদৃশ্য এক শক্তিতে কোনও অভিযোগেরই সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার হয়না । তাই আমরা ন্যায় বিচার পেতে খুব শিঘ্রই সরাসরি আদালতে অভিযোগ দাখিল করব।
এ সময় তারা আরও বলেন, প্রধান শিক্ষকের এই রকম ভাবে কমিটি  গঠনের  কারনে অধিকাংশ অভিভাবক নিরব প্রতিবাদ হিসেবে নিজেদের সন্তানকে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে এক সময়ে বিদ্যালয়টিতে শতশত শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকলেও বর্তমানে বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থী সংকটের হুমকির সন্সুখিন হবে।।
ওই বিদ্যালয়ের সর্বশেষ এডহক কমিটির সভাপতি মুকুল সরকার জানান, আমি এডহক কমিটির সভাপতি হলেও নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি গঠনের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ভালো বলতে পারবেন। আপনি উনার থেকে বিস্তারিত জানুন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, আমি মিটিংয়ে আছি। সময় করে স্কুলে আসেন, সব তথ্য দেয়া হবে।
এ বিষয়ে সদ্য যোগদানকারি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও) শারমিন আখতার বলেন, এ সংক্রান্ত কোন অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2022 BD Tribune 24
Theme Customized By Shakil IT Park